সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বেহাল বিহারীপুর সড়ক, দুর্ভোগে কয়েক গ্রামের মানুষ বাহুবলে পূর্ব বিরোধে দফায় দফায় সংঘর্ষ, নিহত ২ আহত ৪০ সাতছড়ি বনে গাছ চুরি,সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত শুরু বিভাগীয় পর্যায়ে চুনারুঘাট ডিসিপি হাই স্কুলের খুদে বিজ্ঞানীদের চমক সাতছ‌ড়ি‌ জাতীয় উদ‌্যান থে‌কে সেগুনগাছ চু‌রি DEMON 71 এর আবারো চমক, বিভাগীয় বিজ্ঞান মেলায় প্রথম স্থান অর্জন স্বর্ণপদক জয় করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে যাচ্ছে বাহুবলের “DEMON 71” টিম অ্যাম্বুলেন্স গ্যারেজবন্দি, চালক সংকটে সচল কর্মকর্তার গাড়ি বর্তমানে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত আছে একটি শাটার বিকল, দেড় মাস গ্যারেজবন্দি বাহুবল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স

মেয়াদ পূর্তির পরও গাছ কাটতে বন বিভাগের টালবাহানা

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে মেয়াদ পূর্তির পরও বন বিভাগ থেকে সামাজিক বনায়নের গাছ না কাটায় জীবিকা নির্বাহে ঋণগ্রস্থ হয়ে পরেছেন উপকারভোগীরা। উপকারভোগী দরিদ্র জনগোষ্ঠীতাদের সর্বস্ব দিয়ে এই বনায়ন সৃজন করেছেন। কিন্তু বন বিভাগের টালবাহানায় দীর্ঘ উনিশ মাস ধরে গাছ গুলো কাটা হচ্ছেনা।

দীর্ঘ ১০ বছর বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ তুলে তারা জীবিকা নির্বাহ করে পরিবার পরিজন নিয়ে এসব গাছ পরিচর্যা ও পাহারা দিয়ে এ পর্যায়ে নিয়ে আসেন। আশা ছিল লভ্যাংশের টাকা দিয়ে সেই ঋণ পরিশোধ করবেন। কিন্তু তাদের সেই আশায় এখন গুড়েবালি। দু’চোখে অমানিষার অন্ধকার দেখছেন তারা।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে স্থানীয় শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই কষ্টের কথা জানান উপকারভোগীর পক্ষে মো. গোলাম মোস্তফা।

তিনি লিখিত বক্তব্য বলেন, তারা কালাপুর গ্রামের ৩১ জন উপকারভোগী ২০০৭-২০০৮ সালে বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের নিয়ন্ত্রণে ৩০.৩৭ হেক্টর ভূমিতে প্রায় ৭ হাজার বনজ, কৃষিজ, ফলজ বৃক্ষ রোপণ করেন। চুক্তিকালে ওই বনে চার বছর বয়সী কিছু বৃক্ষ আগেরও লাগানো ছিল। যার মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৮ সালের ১ জুলাই। চুক্তি অনুসারে ১০ বছর পর এসব গাছ কর্তণ করে বিক্রয় করবে বন বিভাগ। এ বিক্রয়লব্ধ অর্থের ৪৫% বন অধিদপ্তর, ৪৫% উপকারভোগী আর বাকি ১০% ট্রি ফার্মিং ফান্ডে জমা হবার কথা ছিলো।

তিনি জানান, বনবিভাগের সাথে তাদের সামাজিক বনায়নের চুক্তি হবার পর থেকেই তারা গাছ ও সরকারের সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষায় নিজেদের অর্থে নৈশ চৌকিদার নিয়োগ করেন। উপকারভোগীরা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে দিন-রাত পাহারা দেন। গত ১০ বছরে এই বনবিটের তাদের সামাজিক বনায়র্নী বা পুরাতন গাছ চুরির কোন রেকর্ড নেই।

তাছাড়া তাদের সামাজিক বনায়ন বা বাফার জোনে বনের প্রাণিদের খাদ্য যোগান দেয় এমন গাছ থেকে থাকলে তা না কেটে অন্য গাছ গুলো কাটার জন্য তারা স্থানীয় বন বিভাগকে বলেছেন। কিন্তু বন বিভাগ গাছ কাটতে টালবাহানা করছে। উপকারভোগী দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের সর্বস্ব দিয়ে এই বনায়ন সৃজন করেছেন। এটিকে কেন্দ্র করেই তাদের জীবন-মান পরিচালিত। অনেকেই বাগান রক্ষা করতে নানা সমিতিসহ বিভিন্নভাবে ঋণগ্রস্থ হয়েছেন। এসব ঋণের শোধ করতে অনেক ৪৫% টাকার অপেক্ষায় দিনানিপাত করছেন। দীর্ঘ ১৯ মাস ধরে নানা অজুহাতে তাদের সামাজিক বনায়নের গাছ কর্তন না করায় অনেক পরিবার এখন প্রায় নিঃস্ব হয়ে পরেছেন।

তাই বন ও পরিবেশমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের নিকট তারা দ্রুত গাছ গুলো কাটার ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আকুল আবেদন জানান। একই সঙ্গে বন বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে সুদৃষ্টি করেন। সংবাদ সম্মেলনে ৩১জন উপকারভোগী উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘উপকারভোগীরা ন্যাচারাল গাছের ভেতরই বাগান করেছিল। এখন যদি তারা ন্যাচারেল গাছ রেখে তাদের সৃজন করা গাছ কাটতে চায় তাহলে আমাদের কোন অসুবিধা নেই। তারা বন বিভাগের বরাবর আবেদন দিলেই আমরা কাটতে দেব।’

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়েবসাইটের কোন কনটেন্ট অনুমতি ব্যতিত কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com